ধাতুর বৈশ্বিক বাজারে চীন

তামা-দস্তার আমদানি হ্রাস বেড়েছে অ্যালুমিনিয়াম রফতানি

বৈশ্বিক বেস মেটালের বাজারে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে চীনের অবস্থান।

ধাতুর বাজারে দেশটি যেমন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা, তেমনি বেশির ভাগ বেস মেটালের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদকও। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) তামা, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, সিসা ও টিনের মতো বেস মেটালের বাজারে চীনের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে বলে জানান জ্যেষ্ঠ কলামিস্ট ও বিশ্লেষক অ্যান্ডি হোম। খবর রয়টার্স।

বেস মেটালের বিভিন্ন খাতে চীনের আমদানি ও রফতানির পরিবর্তন আগামী মাসগুলোয় বৈশ্বিক ধাতুবাজারের দাম, সরবরাহ ও বাণিজ্যপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তামার আমদানি কমেছে

ওয়ার্ল্ড ব্যুরো অব মেটাল স্ট্যাটিসটিকসের (ডব্লিউবিএমএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) চীনের পরিশোধিত তামার নিট আমদানি ১৩ শতাংশ কমে ১৩ লাখ ৭৪ হাজার টনে নেমেছে। এটি ২০১৭ সালের পর কোনো বছরের প্রথমার্ধে সর্বনিম্ন আমদানি। বিপরীতে রফতানি ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ২৪ হাজার টনে পৌঁছেছে।

অ্যান্ডি হোমের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে বছরের শুরুতে চীনের আমদানি চাহিদা কমে যায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আমদানি শুল্ক ও সিএমই বাজারে তামার উচ্চ প্রিমিয়ামের কারণে দুই দেশের মধ্যে তামা সংগ্রহের প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।

অ্যালুমিনিয়াম রফতানিতে গতি

চীনে প্রাথমিক অ্যালুমিনিয়াম রফতানির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক থাকায় দেশটি মূলত প্লেট, শিট ও ফয়েলের মতো আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানি বাড়িয়েছে।

সরকার ১৩ শতাংশ কর রেয়াত প্রত্যাহার করায় ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে এসব পণ্যের রফতানি ৯ শতাংশ কমেছিল। তবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা ফের ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

দস্তার আমদানি কমেছে

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চীনের পরিশোধিত দস্তার নিট আমদানি ৭৯ শতাংশ কমে ৩৮ হাজার টনে নেমেছে।

অ্যান্ডি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটি গলন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর মতো দস্তা চীন নিজেরাই তৈরি করতে পারছে। গত বছরের শেষ দিকে টানা দুই মাস চীন নিট রফতানিকারক ছিল। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকলে ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিসা আমদানিতে রেকর্ড

অন্যদিকে সিসার ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। প্রথমার্ধে চীনের পরিশোধিত সিসার আমদানি ১৭ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার টনে পৌঁছেছে। এটি ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ।

টিনের সরবরাহে স্বস্তি

টিনের বাজারে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। বছরের প্রথমার্ধে ১ হাজার ৫০০ টন নিট আমদানিকারক ছিল চীন। এর পেছনে বড় কারণ মিয়ানমার থেকে টিন কনসেনট্রেটের কাঁচামাল সরবরাহ বৃদ্ধি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মান মাও খনি ফের উত্তোলনে ফিরেছে। যদিও কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তবু মিয়ানমার থেকে চীনের টিন কনসেনট্রেট আমদানি এক বছরে তিন গুণ বেড়ে ৩৯ হাজার ৫০০ টনে পৌঁছেছে।

এছাড়া বলিভিয়া থেকে আমদানি দ্বিগুণ হওয়া ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে স্থিতিশীল সরবরাহের ফলে দুই বছর ধরে চলা টিনের কাঁচামাল সংকট অনেকটাই কমেছে।

আরও